পাসপোর্ট করার নিয়ম (২০২৩)

বিদেশ যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করা অত্যন্ত জরুরি।  আর পাসপোর্ট করার জন্য পাসপোর্ট করার নিয়ম জানাটা আরও বেশি জরুরি। কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই পাসপোর্ট করার নিয়ম কানুন সম্পর্কে আলোচনা করব আজকের এই পোষ্ট MRP পাসপোর্ট নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব।

আপনারা কিভাবে পাসপোর্ট এর আবেদন করবেন এবং দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পাবেন সাথে আপনার পাসপোর্ট আবেদন করার জন্য কত টাকা ফি দিতে হবে, পাসপোর্ট কবে হাতে পাবেন সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করব ধাপে ধাপে।  সম্পুর্ন পোস্ট না পারলে আপনি পাসপোর্ট করার নিয়ম সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা নাও পেতে পারেন তাই আশা করি আপনি সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়বেন।

পাসপোর্ট করার নিয়ম

পাসপোর্ট করার নিয়ম

পাসপোর্ট করার জন্য পাসপোর্ট অধিদপ্তর অনুমোদিত ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি জমা দিয়ে স্লিপ সংগ্রহ করে অনলাইন আবেদন করতে হবে। এরপরে পাসপোর্ট আবেদন কপি প্রিন্ট করে সাথে অন্যান্য কাগজপত্র সংযুক্ত করে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে। তারপর বিভিন্ন ভেরিফিকেশন এর মাধ্যমে আপনি আপনার পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন।

ই পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে একটু ভিন্ন নিয়ম রয়েছে আর ই পাসপোর্ট এর জন্য আপনারা আলাদা একটি পোস্ট আমাদের ওয়েবসাইটে  আপডেট পেয়ে যাবেন

পাসপোর্ট করতে যা যা লাগে তাহল

  1. ভোটার আইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন সনদ ফটকপি
  2. বিদ্যুৎ বিলের কপি
  3. ব্যাংক জমা রশীদ
  4. পূরণকৃত ফরম
  5. ছবি

পাসপোর্ট আবেদনের ধাপসমূহ

পাসপোর্ট করার নিয়ম পূর্ণাঙ্গভাবে দেখানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রতিটি ধাপে ধাপে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি ।যেমন পাসপোর্ট করতে দিতে হবে পাসপোর্ট এর জন্য কি কি ডকুমেন্ট লাগবে এবং অনন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায় সম্পূর্ণভাবে দেখানোর চেষ্টা করব তাই সম্পূর্ণ করবেন আশা করি।

আরো পড়তে পারেনঃ পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম

পাসপোর্টের ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পাসপোর্ট অধিদপ্তর অনুমোদিত  কয়েকটি ব্যাংক রয়েছে উক্ত ব্যাংকের যে কোন ব্রাঞ্চে পাসপোর্ট ফি দেয়া যাবে। ব্যাংক গুলো হলো

  • সোনালী ব্যাংক
  • ট্রাস্ট ব্যাংক
  • ব্যাংক এশিয়া
  • প্রিমিয়ার ব্যাংক
  • ঢাকা ব্যাংক।
  • ওয়ান ব্যাংক

এইসবের যে কোন একটি ব্যাংকে আপনি আপনার পাসপোর্ট ফি জমা দেবেন এবং তাদের কাছ থেকে একটি  প্রমানপত্র বা স্লিপ সংগ্রহ করবেন যেটি আপনার পাসপোর্ট ফরম জমা দেওয়ার সময় কাজে লাগবে। উক্ত স্লিপটির ফটোকপি করে রাখবেন ভবিষ্যতে এটি অন্যান্য কাজের দরকার হতে পারে।

MRP পাসপোর্ট ফি

আবেদনের প্রকৃতি বিতরণের ধরণ পাসপোর্ট ফিস (টাকা)
নতুন আবেদনকারী/

 

 

হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণকৃতদের (সারেন্ডার) জন্য

জরুরি ফিস (৭ দিন)  ৬০০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৬৯০০.০০ টাকা
সাধারণ ফিস (২১ দিন) ৩০০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৩৪৫০.০০ টাকা
অনাপত্তি সনদ (NOC) এর ভিত্তিতে (জরুরি সুবিধাসহ) ৩০০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৩৪৫০.০০ টাকা
সরকারি আদেশ (GO) এর ভিত্তিতে চিকিৎসা, হজ্জ্ব পালন, তীর্থস্থান ভ্রমণের ক্ষেত্রে (জরুরি সুবিধাসহ) ৩০০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৩৪৫০.০০ টাকা
সরকারি আদেশ (GO) এর ভিত্তিতে সরকারি কাজের ক্ষেত্রে (জরুরি সুবিধাসহ) বিনামূল্যে
রি-ইস্যু জরুরি ফিস (৭ দিন) (NOC/GO ব্যতীত) ৬০০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৬৯০০.০০ টাকা
সাধারণ ফিস (২১ দিন) ৩০০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৩৪৫০.০০ টাকা
মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফিস (মেয়াদ পরবর্তি প্রতি বছরের জন্য) সাধারণ ফিস  ৩০০.০০ + ১৫% ভ্যাট = ৩৪৫.০০ টাকা

 

সুত্রঃ dip.gov.bd

পাসপোর্ট এর জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া

পাসপোর্টের ফি জমা দেয়ার পরে পাসপোর্ট এর জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি না করলে  আপনি পাসপোর্ট  করতে পারবেন না।  আর পাসপোর্ট অনলাইনে আবেদন করার জন্য  প্রথমে আপনাদেরকে চলে যেতে হবে passport.gov.bd ওয়েবসাইটে।

mrp পাসপোর্ট করার নিয়ম

সেখানে আপনি একটি ফরম পাবেন এখানে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড অথবা আপনার জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী সমস্ত তথ্য দিয়ে ফরমটি পূরণ করবেন এবং অনলাইনে সাবমিট করবেন। গুরুত্বপূর্ণ জেনে রাখা ভালো আপনার আইডি কার্ড এবং আপনার জন্ম নিবন্ধন কার্ড সম্পূর্ণ মিল থাকতে হবে যদি আপনার আইডি কার্ডের সাথে আমরা জন্ম নিবন্ধন মিল না থাকে তাহলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে  নিবেন।

পাসপোর্ট আবেদন করার পরে আপনারা উক্ত আবেদন কপি ডাউনলোড করে নিবেন ডাউনলোড করার জন্য নিচের ছবির মত Download Application Form  এ ক্লিক করুন এবং এটি রঙিন প্রিন্ট করবেন।

পাসপোর্ট করার নিয়ম

এই আবেদন কপিটি আপনারা কখনো সাদা কালো প্রিন্ট করবেন না তাহলে আপনার আবেদনটি বাতিল হয়ে যাবে এজন্য সব সময় এইসব আবেদন কপি রঙিন প্রিন্ট করবেন। পাসপোর্ট ফি এর স্লিপ সংগ্রহ মত এই আবেদনকৃত অনলাইন কপি আপনার কাছে সংগ্রহ করে রাখবেন

পাসপোর্ট এর জন্য ফরম পূরণ

উপরোক্ত দুটি প্রক্রিয়া শেষ হলে আপনাকে পাসপোর্ট আবেদনের জন্য পাসপোর্ট ফরম সংগ্রহ করে সেই ফরমটি পূরণ করতে হবে অনলাইন আবেদনের পরবর্তী 15 দিনের মধ্যে। পাসপোর্ট ফরম আপনারা অনলাইনে খুব সহজে পেয়ে যাবেন অথবা আপনি যে কম্পিউটারে দোকানে গেল সেটি পেতে পারেন। অথবা পাসপোর্ট ফরম ডাউনলোড করার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন । এখানে তিন পেজ এর একটি পাসপোর্ট এর ফরম পিডিএফ ফাইল পাবেন সেটি ডাউনলোড করে সাদা কাগজে  রঙিন প্রিন্ট করুন। উক্ত পাসপোর্ট এর ফরম আবেদনকারীর একটি রঙিন 55×45 এম,এম সাইজের ছবি আঠা দিয়ে লাগিয়ে সত্যায়ন করতে হবে।

এরপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আপনি যে টাকা জমা দিয়েছেন ব্যাংকে সেখান থেকে যে আপনাকে একটি স্লিপ দেওয়া হয়েছে সেই স্লিপ উক্ত পূরণকৃত ফরম এর সাথে আটা দিয়ে উপরের অংশ লাগিয়ে দিতে হবে। যেমনটা নিচের ছবিতে দেখতে পাছেন লাল দাগ দেয়ায়

পাসপোর্ট করার নিয়ম

সমস্ত বডিতে  আটা দিয়ে লাগানোর দরকার নাই শুধুমাত্র  উপরের অংশে লাগিয়ে দিবেন যাতে একটার সাথে একটা সংযুক্ত হয়ে যায় যেমনটা পিনাপ করলে হয়। তবে ভুলেও এখানে পিন মারতে যাবেন না।  এটি হয়ে গেলে আপনার  পরবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রত্যয়ন পত্র সংগ্রহকরে সেটি সত্যায়ন করা। এই কাজটি করার জন্য অনেকে দালালের সহযোগিতা নিয়ে থাকে। তবে এ কাজটি আপনি চাইলে নিজেই করতে পারবেন । ছবি বা কাগজপত্র সত্যায়িত করতে পারবেন প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা /ইউপি চেয়ারম্যান/ পৌর মেয়র/ সিটি মেয়র/ সিটি/ বিসিএস কৃত কর্মকর্তা/  পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমূহ ইত্যাদি।

পাসপোর্ট অফিসে ফর্ম জমা দেয়া । পাসপোর্ট করার নিয়ম

অনলাইন আবেদন কৃত প্রিন্ট ফরম এবং হাতে পূরণকৃত প্রিন্ট ফরমের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস যেমন ভোটার আইডি  কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন সনদ ফটোকপি এর সাথে আপনার বিদ্যুৎ বিলের এক কপি নিয়ে নিকটস্থ পাসপোর্ট অফিসে চলে যাবেন। সেখানে বিভিন্ন কাউন্টার দেখতে পাবেন আপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাউন্টার দেয়া হবে উক্ত কাউন্টার থেকে আপনার ফরমগুলো এবং আপনার ডকুমেন্টগুলো দেখাবেন উক্ত কাউন্টারের কর্মকর্তাদেরকে।

পাসপোর্টের জন্য ছবি তোলা এবং ফিংগার দেওয়া

পাসপোর্ট অফিসের ফরম জমা দেয়ার পর  উক্ত কর্মকর্তারা সেটির বৈধতা যাচাই করবে সমস্ত কিছু যাচাই-বাছাই করার পর আপনাকে একটি সিলিপ দড়ি দেওয়া হবে তারপর আপনাকে একটি অন্য কাউন্টারের কথা বলবে সেখানে আপনাকে আপনার বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন এবং আপনার ছবি  তোলার জন্য বলা হবে। অনেক ক্ষেত্রে  ছবি তোলার  কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন থেকে থাকে সেক্ষেত্রে আপনাকে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।  সব  শেষে কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন থেকে থাকে সেক্ষেত্রে আপনাকে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। সবশেষে আপনি যখন কাউন্টারের প্রবেশ করবেন তখন আপনাকে সেই স্লিপ দেখাতে হবে তারপরে  তারা আপনার ছবি তুলবে এবং আপনার চোখের রেটিনা নেবে সাথে সাথে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নেবে।

এই সমস্ত বায়োমেট্রিক যাচাই-বাছাই হওয়ার পরে আপনাকে তারা একটি ফাইনাল  ডেলিভারি স্লিপ দিয়ে দেবে সেখানে একটি তারিখ উল্লেখ থাকবে আপনার পাসপোর্ট আপনি কবে পাবেন হাতে । তথ্য ডেলিভারি স্লিপে একটি এনরোলমেন্ট নাম্বার এবং একটি এপ্লিকেশন নাম্বার বা পিন নাম্বার থাকবে যেটি দিয়ে আপনি অনলাইন থেকেই আপনার পাসপোর্ট এর বর্তমান স্ট্যাটাস জানতে পারবেন যে আপনার পাসপোর্টটি তৈরী হয়েছে কিনা। সবশেষে আপনি যখন উক্ত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আপনার প্রমাণাদি দেখাবেন তখন তারা আপনাকে আপনার কাঙ্খিত পাসপোর্টটি দিয়ে দেবে। 

পাসপোর্ট করার নিয়ে যত প্রশ্ন। পাসপোর্ট করার নিয়ম

পাসপোর্ট কবে হাতে পাব

সাধারণ ভাবে পাসপোর্ট ডেলিভারি ক্ষেত্রে 14 দিন সময় লাগে। পাসপোর্ট এর জন্য সমস্ত কার্যক্রম শেষে যখন আপনি ছবি দেবেন তখন আপনাকে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে উত্তর ডেলিভারি স্লিপে আপনার পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়া থাকবে সেই থেকে আপনি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পাসপোর্ট করতে পারবেন।সর্বোচ্চ গেলে একমাস সময় লাগতে পারে পাসপোর্ট তৈরি হতে।

NID card নেই , শুধু Birth certificate আছে। আমি কিভাবে অ্যাপ্লাই করব

আপনি যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার ভোটার আইডি কার্ড করতে হবে। আর 18 বছরের প্রাপ্তবয়স্ক না হন তাহলে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের সাথে আপনার অভিভাবকের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি লাগতে পারে।

স্টুডেন্টদের পাসপোর্ট করার নিয়ম কি

এই পোস্টটি পাসপোর্ট করার নিয়ম যেভাবে বলা হয়েছে তেমনিভাবে স্টুডেন্ট পাসপোর্ট তৈরি করতে পারবে। যদি তাদের  ভোটার আইডি না থাকে তাহল তারা তাদের পিতা-মাতার আইডি কার্ডের ফটোকপি দিয়ে আবেদন করতে পারবে যথা নিয়মে

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *