ইউরোপের যে ৭ দেশের ভিসা সহজে পাওয়া যায়

ইউরোপের কোন দেশের ভিসা সহজে পাওয়া যায় , বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ যাওয়ার উপায়, খুব সহজে কিভাবে ইউরোপের দেশগুলিতে যেতে পারবেন । ইউরোপের কোন দেশ গুলিতে যাওয়া আমাদের জন্য উচিত নয় ,  কম খরচে ইউরোপের কোন দেশে যাওয়া যায়, সম্মানিত পাঠক গন আজকে আমরা জানবো এই সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ।

ইউরোপে ভ্রমণ বা বসবাস আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো । আমরা আমাদের জীবনের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য এবং নিরাপদ জীবনের জন্য আমরা প্রায়শই সবাই ইউরোপ আমেরিকা-কানাডার দেশগুলোর দিকে ছুটতে থাকি। আর এই ছোটার  পিছনে আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা থেকে থাকে যেমন আমাদের অনেকের টাকার অভাব থেকে থাকে, অনেকের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ যাওয়ার উপায় সম্পর্কে না জানার কারণে ইউরোপে যেতে পারে না। আবার প্রায় সময় ইউরোপের দেশগুলোর ভিসা পাওয়া যায় না।

বর্তমানে ইউরোপের কয়েকটি দেশ আমাদের ভালো ভিসা দিচ্ছে । আমরা কিন্তু খুব সহজে ভিসা করে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের কয়েকটা দেশে ভ্রমণ করতে পারি । আমরা আজকে  ইউরোপের এমন কয়েকটি দেশ  নিয়ে আলোচনা করব যেই দেশ গুলোর ভিসা পাবার জন্য আমাদের বেশি কষ্ট করতে হবে না ।

আপনি ইউরোপের দেশ ভ্রমণ করার জন্য শেনজেন ভিসা এপ্লাই করতে পারবেন।  অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পোল্যান্ড, এই ভিসার মাধ্যমে, আপনি এই ২৬ টি ইউরোপীয় দেশে অবাধে ভ্রমণ করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকতে পারবেন। এই ভিসার মেয়াদ ৬ মাস, অর্থাৎ ৬ মাসের মধ্যে ৯০ দিন যা ইউরোপীয় দেশগুল তে প্রবেশ করার জন্য।

ইউরোপের দেশগুলোর ভিতর সব দেশগুলোয় কিন্তু উন্নত নয় ।  ইউরোপের মধ্যে এমন কিছু দেশ আছে যেখানে আমাদের ভিসা হলেও আমাদের যাওয়া উচিত না । আজকে আমরা আলোচনা করব ইউরোপের এমন কিছু দেশ নিয়ে যে দেশগুলো উন্নত এবং খুব সহজে আমাদের ভিসা দিয়ে থাকে । ইউরোপ ভিসা নিয়ে নিচে একটি ভিডিও দেয়া হবে , সেটা দেখলেই ধারনা পেয়ে যাবেন অনেকটা.

ইউরোপের কোন দেশের ভিসা সহজে পাওয়া যায়

আরো পরুনঃ

ইউরোপের যে ৭ দেশের ভিসা সহজে পাওয়া যায়

যারা বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের দেশগুলো যাওয়ার জন্য ভিসা আবেদন করতে চাচ্ছেন তারা খুব সহজে এই দেশগুলোর ভিসা পেয়ে যাবেন । চলুন যেনে নিই ইউরোপের কোন দেশের ভিসা সহজে পাওয়া যায়। 

1 . সুইজারল্যান্ড

পশ্চিম ইউরোপের মধ্যভাগে অবস্থিত একটি দেশ হল সুইজারল্যান্ড । চোখ জুড়িয়ে যাবার মত একটি দেশ । এটি পশ্চিম ইউরোপের ছোট একটি দেশ । সুইজারল্যান্ডকে বলা হয় পুরো ইউরোপের হৃদপিণ্ড সুইজারল্যান্ডের  দক্ষিনে ইতালি এবং উত্তরে জার্মানি .  পশ্চিমে ফ্রান্স এবং পূর্বে অস্ট্রেলিয়া  রয়েছে । বর্তমানে বাংলাদেশীদের  ইউরোপের সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার জন্য বেশি একটা কষ্ট করতে হচ্ছে না ।  সুইজারল্যান্ড বর্তমানে খুব সহজে ভিসা দিচ্ছে । আমরা এখন বাংলাদেশে বসেই সুইজারল্যান্ড এর ভিসার জন্য আবেদন করতে  পারি । সুইজারল্যান্ডে আসলে আপনাকে হয়তো বা টুরিস্ট ভিসা অথবা স্টুডেন্ট ভিসায় আসতে হবে।  বর্তমানে এই ধরনের ভিসা একটু হলেও এপ্রভাল পাওয়া যায়।

2. ফ্রান্স

20 বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লোক বহুল পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত ফ্রান্স । ফ্রান্সের নাম শুনলেই আমাদের মাথায় আসে । সেই শক্তিশালী একটা ফুটবল টিমের কথা  এবং পৃথিবীর সেরা  ফুটবলারদের মধ্যে একজন জিনেদিন   জিদানের কথা । শিল্প-সাহিত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন প্যারিস শহরের চিত্র । এবং মনে পড়ে সেই বিশাল আইফেল টাওয়ারের কথা  । শিল্প-সাহিত্যের জন্য বিখ্যাত একটি দেশ হল ফ্রান্স । 

ফ্রান্সে চাকরির জন্য ভিসা পাওয়াটা খুব কঠিন। যদি আপনি ফ্রান্সের চাকরির জন্য ভিসা আবেদন করেন তাহলে এটা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই হবে না কারণ চাকরি ভিসার জন্য আপনার অ্যাপ্রভাল পাওয়াটা খুব কঠিন ব্যাপার। তবে যারা স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে পারবেন অর্থাৎ যাদের ILTS  করা থেকে থাকে। বাংলাদেশের মানুষ ফ্রান্সে নিচে কয়েকটা ক্যাটাগরিতে ভিসা পেতে পারেন তবে একটু কঠিন.           

  1. পারিবারিক ভিসা
  2. ব্যবসা ভিসা
  3. স্টুডেন্ট ভিসা
  4. পর্যটন ভিসা

3. লিশটেনস্টাইন   

ইউরোপের অসংখ্য দেশগুলোর ভিতর ছোট্ট একটি দেশ হলো  লিশটেনস্টাইন । ছবির মতনই সুন্দর এই দেশটি । লিশটেনস্টাইন দেশটি সুইজারল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার  ঠিক মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করছে । দেশটির চারপাশ পাহাড়ি সৌন্দর্যের অপরূপ ছোঁয়া দিয়ে ঢাকা । দেশটির আয়াতন মাত্র 160 বর্গ কিলোমিটার । বাংলাদেশের যে কোন জেলার আয়তন এর চাইতেও কম  লিশটেনস্টাইন এর আয়তন । লিশটেনস্টাইন দেশে জনসংখ্যা খুবই কম । তাদের অনেকে আছে  অন্য দেশের  ।

4. লিথুয়ানিয়া

লিথুয়ানিয়া উত্তর পূর্ব  ইউরোপের একটি দেশ । লিথুয়ানিয়া সুইডেনের বিপরীত তীরে অবস্থিত   লিথুয়ানিয়া  শিক্ষার হার ৯৯% । লিথুয়ানিয়া সবথেকে স্টুডেন্ট ভিসার  সুবিধা বেশি  আমাদের দেশের মেধাবী স্টুডেন্ট রা টাকার অভাবে  ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে পড়াশোনা করার সুযোগ পান না ।  লিথুয়ানিয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় জীবনযাত্রা  ব্যয় অনেক কম তার জন্য অল্প খরচে শিক্ষার্থীরা লিথুয়ানিয়া পড়াশোনা করতে পারেন ।  লিথুয়ানিয়ায়  পড়াশোনার মানও  ও খুব ভালো  ।

5. পর্তুগাল

ইউরোপের দক্ষিণে শেষের  দিকে অবস্থান  পর্তুগাল দেশটির । পর্তুগাল দেশটিকে সাগরকন্যা নামেও ডাকা হয় এর কারণ দেশটি আটলান্টিক মহাসাগরের একেবারে পাশে অবস্থিত । বিশ্বের দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রিজ পর্তুগালে অবস্থিত । সবুজ শ্যামল ঘেরা একটি দেশ  পর্তুগাল । পর্তুগালে আসার সবচেয়ে সহজ উপায় হল চাকরির ভিসা ।  চাকরির বিষয় পর্তুগালে আসলে সফলতা পাওয়ার  চান্স অনেক বেশি থাকে । 

আমরা বাংলাদেশে  থেকেই পর্তুগালের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারি । তবে এ স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে অবশ্যই আপনার ILTS  থাকতে হবে ।

6. লাটভিয়া

উত্তর ইউরোপের ছোট একটি দেশ হল লাটভিয়া । দেশটি বাল্টিক সাগর এর পূর্বে অবস্থিত দেশটির আয়াতন বাংলাদেশের অর্ধেকেরও কম । লাটভিয়া দেশটি  প্রচুর পরিমাণে ভিসা দিয়ে থাকি স্টুডেন্টদের  । এবং  জব ভিসা  তেও আপনি লাটভিয়া যেতে পারবেন ইতিমধ্যে অনেক বাংলাদেশি আছেন যারা লাটভিয়ায় থাকেন  ।  সহজে ইউরোপ ভ্রমণের এটি একটি উপায় হতে পারে ।

7. মাল্টা

ইন্ডিয়ান এবং বাংলাদেশীদের প্রচুর পরিমাণে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দিয়ে থাকেন এই দেশটি । সাথে স্টুডেন্ট ভিসা তো আছেই । আপনি খুব সহজে মাল্টাতে ভিসা নিয়ে আসতে পারবেন  এবং মাল্টাতে বসবাস করতে পারবেন । মাল্টা মূলত সাতটি দ্বীপ নিয়ে তৈরি একটি দেশ । ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত এই দেশটি ।  ইউরোপ ভ্রমণের জন্য এটি একটি ভালো উপায় হতে পারে । 

ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগে

এটি যাচাই করতে পারবেন আপনি অনলাইনের vfsglobal ওয়েবসাইট থেকে। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর বাংলাদেশ সিলেক্ট করে আপনি যেই ইউরোপের দেশে যেতে চান সেটি সিলেক্ট করবেন এবং Search ক্লিক করলেই জানতে পারবেন ইউরোপের কোন দেশে যেতে কত টাকা লাগবে।

সচরাচর আমরা বিদেশে গেলে দালালের হাত ধরে বেশিরভাগ মানুষ যাই। এতে আমাদের টাকা নষ্ট হয় অনেক সময় টাকা বেশি লাগে আবার আমরা সঠিকভাবে বিদেশে গিয়ে পৌঁছাতে পারি না। একে দেশের ভিসার দাম একেক রকমের। ভিসার দাম কম বেশি বাড়তে কমতে পারে।  মানুষ একেক সময় একেক কথা বলে যে অমুক দেশে যেতে টাকা লাগে কত পরিমান টাকা হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।  আপনি চাইলে নিজেই অনলাইন থেকে এগুলো চেক করে নিতে পারবেন বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে যেতে কত টাকা লাগে।

Similar Posts

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *