ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করার উপায়

10

আপনার পূর্বের ঠিকানা হতে ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করে নতুন ঠিকানায় ভোটার আইডি কার্ড স্থানান্তর করার জন্য ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম আপনাকে জানতে হবে। কেননা আপনি যদি ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম না জেনে থাকেন তাহলে ভোটার এলাকা স্থানান্তর বা পরিবর্তন করতে পারবেন না এবং বিভিন্ন ঝামেলায় পড়তে পারেন । কিভাবে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই আপনি এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করবেন সেটি জানতে পারবেন আজকে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা

এনআইডি সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিনই এনআইডি সংশোধনের জন্য অসংখ্য আবেদন জমা পড়ছে। যেগুলোর বেশিরভাগ নাম, বয়স ও স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কিত। অনেকে আবার দ্বৈত ভোটারও হয়েছেন। যেগুলো সমাধানে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ইসির পক্ষ থেকে। আর এসব ভুলের জন্য সাধারণ নাগরিকরা সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে জমির দলিলাদিসহ পাসপোর্ট করতে না পারার জটিলতায় ভোগেন।

সাধারণত একজন নাগরিক তার বর্তমান ঠিকানায় বিভিন্ন সরকারি আবাসিক-অনাবাসিক সেবা পাওয়ার জন্য ভোটার আইডি কার্ড তার ওই এলাকায় রেজিস্টার করে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ভোটার আইডি কার্ড রেজিস্টার করেছে এক জায়গায় কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার জায়গা পরিবর্তন করে অন্য জায়গা স্থানান্তরিত হয়েছেন এরপরে উক্ত জায়গায় বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়ার জন্য তাকে ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করতে হয় ।

এর মধ্যে সবচাইতে মূল্যবান যে জিনিসটি হলো সেটি হলো ভোট প্রদান। আপনি যে এলাকায় অবস্থান করেন উক্ত এলাকায় আপনি ভোটার হতে হলে অবশ্যই আপনাকে আপনার পূর্ববর্তী ঠিকানা থেকে বর্তমান ঠিকানায় ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করতে হবে। তো চলুন আমরা জানি কিভাবে ভোটার আইডি কার্ড ঠিকানা পরিবর্তন করা যায় বা ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম।

ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম

বর্তমানে ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার দুইটি নিয়ম রয়েছে

  • অনলাইনের মাধ্যমে
  • নিকটস্থ নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে

ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার জন্য অবশ্যই আপনার আইডি কার্ডের স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে হবে। এটি করার জন্য আপনি যে এলাকায় স্থানান্তরিত হতে চান উক্ত এলাকার নিকটস্থ নির্বাচন কমিশন অফিসে যেতে হবে। আপনি চাইলে নিজেই সেখানে উপস্থিত হতে পারেন অথবা আপনার এলাকার কাউন্সিলর/ ওয়ার্ড মেম্বার কে দিয়ে কাজটি করে ফেলতে পারবেন।

ভোটার আইডি কার্ডের স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য সংশোধন ফরম – ১৩ পূরণ করতে হবে এবং উক্ত ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে যে এলাকায় ভোটার হতে চান উক্ত এলাকার নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দিতে হবে।

সংশোধন ফরম ১৩

সংশোধন ফরম ১৩

ফরমটি ডাউনলোড করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন। ডাউনলোড করার পর কম্পিউটার প্রন্টার দিয়ে প্রিন্ট করুন এবং আপনার যাবতীয় তথ্য গুলো পূরন করুন। যেমন

  • আপনার নাম
  • পিতা মাতার নাম
  • এনআইডি কার্ড নাম্বার
  • জন্ম তারিখ
  • পূর্বের ভোটার এলাকার ঠিকানা
  • যে এলাকায় ভোটার হতে চান সেই এলাকার ঠিকানা
  • ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার কারন
  • ইত্যাদি
  • সর্বশেষ ফ্রম নিচে আবেদনকারীর স্বাক্ষর হিসেবে আপনার স্বাক্ষর দিতে হবে
  • প্রয়োজনীয় সব তথ্য সঠিক ভাবে উল্লেখ করুন যদি ভুল হয় তাহলে আরেকটি ফর্ম ডাউনলোড করে সেটি প্রিন্ট করে আবার সঠিক তথ্য গুলি উল্লেখ করুন।

এরপরের সাথে আপনার প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে। এবং উক্ত কাগজপত্র গুলো আপনাকে নিকটস্থ নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা দিতে হবে। অনলাইন কিংবা নিকটস্থ অফিসে গিয়ে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র।

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • ভোটার আইডি কার্ড
  • ইউটিলিটি বিল
  • ইউনিয়ন/ পৌরসভা কর্তৃক প্রত্যয়ন বা চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট
  • ট্যাক্স / কর রশিদ
  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ফটোকপি ( প্রয়োজন ক্ষেত্রে )
  • পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ( প্রয়োজন ক্ষেত্রে )
  • শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ( অপশনাল )

অনলাইনের মাধ্যমে ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন

অনলাইন থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা ভোটার আইডি কার্ডের ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য পূর্ব থেকেই আপনাকে নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট থাকতে হবে। আপনি যদি একাউন্ট সম্পর্কে জেনে থাকেন তাহলে কিভাবে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন এটি জানতে এই পোস্টটি পড়তে পারেন।

  • ভোটার আইডি কার্ড ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য প্রথমত নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/ ভিজিট করুন।
  • এরপরে আপনার ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে।
  • এরপরে ঠিকানা পরিবর্তন করার জন্য প্রোফাইলে গিয়ে এডিট অপশনে ক্লিক করুন।
  • কোন পপ-আপ অথবা ওয়ার্নিং দেখালে “ বহাল “ বাটনে ক্লিক করুন।
  • এডিত প্রফাইল অপশন থেকে ব্যক্তিগত/ অন্যান্য তথ্য/ ঠিকানা এই তিনটা ফোন থেকে “ ঠিকানা “ অপশন বাছাই করুন। প্রাথমিকভাবে আপনি শুধুমাত্র বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন অনলাইন থেকে। ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার জন্য স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করতে হবে এটি করার জন্য নির্বাচন কমিশন অফিসে যেতে হবে।ভোটার আইডি কার্ড ট্রান্সফার করার নিয়ম
  • বর্তমান ঠিকানা টিক চিহ্ন মার্ক করে আপনি যেই যেই অপশন গুলো পরিবর্তন করতে চান সেগুলো উল্লেখ করুন অথবা টাইপ করুন।
  • সবগুলো উল্লেখ বা টাইপ হয়ে গেলে “ পরবর্তী  “ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
  • এখন আপনি যে তথ্যগুলো পরিবর্তন করেছেন সেগুলো আপনাকে প্রিভিউ দেখাবে। আপনার সকল তথ্য যদি সঠিক থাকে তাহলে “পরবর্তী” অপশনে ক্লিক করুন। আর যদি তথ্য গুলোর মধ্যে ভুল থাকে তাহলে আগের অপশন গিয়ে তথ্যগুলো আবার সংশোধন করে নিন।
  • এখন আপনাকে পে করতে বলবে। আপনি যদি জাতীয় পরিচয় পত্র নতুন সংশোধন করেন তাহলে প্রথম অবস্থায় আপনাকে অন্যান্য তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে ৩৪৫ টাকা পে করতে হবে। আপনি চাইলে যে কোন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অথবা ব্যাংক চালানোর মাধ্যমে জাতীয় পরিচয় পত্রের টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। পেমেন্ট করার আগ পর্যন্ত আপনি পরবর্তী অপশনে যেতে পারবেন না। তাই আগে অবশ্যই পেমেন্ট করুন তারপরে আপনি পরবর্তী অপশনে ক্লিক করুন।
  • পেমেন্ট হয়ে যাওয়ার 30 মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এর পরে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্রের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। যেকোনো স্ক্যানার মেশিন দিয়ে আপনার কাগজপত্রগুলো স্ক্যান করে ওয়েবসাইটে আপলোড করতে পারবেন। আর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লিস্ট উপরে দেওয়া আছে।
  • কাগজপত্র আপলোড দেওয়ার পর আপনি যে তথ্যগুলো পরিবর্তন করেছেন এবং যে ফাইলগুলো আপলোড করেছেন সেগুলো প্রিভিউ দেখাবে। আপনার সকল তথ্য যদি সঠিক থাকে তাহলে সাবমিট অপশন এ ক্লিক করুন।

সাবমিট অপশনে ক্লিক করার পরে আপনার একটি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড হবে সেটা সংরক্ষণ করুন। পিডিএফ ফাইলটি যদি অটোমেটিক ডাউনলোড না হয় তাহলে সাবমিট করার পরে আপনি আপনার বিস্তারিত প্রোফাইল অপশন এ গিয়ে উপরে ডান পাশে ডাউনলোড অপশন থেকেও ফাইলটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

ভোটার এলাকা পরিবর্তন হতে কত সময় লাগে

ভোটার এলাকা পরিবর্তন হতে এক থেকে দুই মাস সময় লেগে যেতে পারে। এক থেকে দুই মাস পরে আপনার মোবাইল নম্বরে এসএমএস এর মাধ্যমে আপনার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়াও অনলাইনের মাধ্যমে আপনি আপনার নির্বাচন কমিশনের একাউন্টে লগইন করার মাধ্যমে জানতে পারবেন আপনার ভোটার এলাকা পরিবর্তন হওয়ার বর্তমানে স্টেটাস অথবা আপনার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা।
ভোটার আইডি কার্ড ঠিকানা পরিবর্তন

নতুন ঠিকানায় আইডি কার্ড

কেউ স্থানান্তরিত ঠিকানায় নতুন কার্ড নিতে চাইলে তাকে পুরাতন কার্ড জমা দিয়ে এবং ২৩০ টাকা সরকারি ফি জমা দিয়ে নতুন কার্ডের জন্য আবেদন পূর্বক কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

এ আইডি কার্ডটি সংগ্রহ করার জন্য আপনাকে সাধারণত দুই থেকে তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। তাছাড়া অনলাইন থেকে আপনি এই আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

10 Comments
  1. নাঈম বাবু says

    আমি আইডি বাইর করবো

  2. Md yasin arafat says

    ভোটার আইডি কার্ড স্থানান্তর করার পরে কিভাবে বিকাশ থেকে বিল পে করব?

    1. SHAFIQ says

      ভোটার আইডি কার্ড স্থানান্তর করার পূরবে ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি প্রদান করা যাবে রকেট এর মাধ্যমে, বিকাশে দেয়ার সিস্টেম নেই

  3. Md yasin arafat says

    ভোটার আইডি কার্ড স্থানান্তর করা হয়েছে। এবং টাকা ও পেমেন্ট করা হয়েছে। এখন কিভাবে অনলাইন থেকে কার্ড ডাউনলোড করব।

    1. SHAFIQ says

      অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার জন্য এই পোস্ট টি পড়ুন ভোটার আইডি কার্ড চেক ও আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম ২০২২

  4. Adnan Ahmed says

    ভোটার আইডি কার্ডের স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন যায় কি?

    1. SHAFIQ says

      স্থায়ী ঠিকানাপরিবর্তনের জন্য আপনাকে শারীরিকভাবে NID ঠিকানা পরিবর্তন ফর্ম (ভোটার মাইগ্রেশন ফরম-১৩) জমা দিতে হবে নিকটস্থ নির্বাচন অফিসে

  5. Md. Moksedur Rahman says

    আমি একবছর আগে বাসা পরিবতন করে পাশের গ্রামে বাড়ি করছি।NID কাডে গ্রামের নাম চাকপাড়া দেয়া। এখন যে গ্রামে বাস করতেছি ঐ গ্রামের নাম তৈয়বপুর। (বি. দ্র. ইউনিয়ন পরিষদ,ডাকঘর, থানা, জেলা,বিভাগ এগুলোর কোনো পরিবতন হয়নি।) পুরাতন গ্রাম থেকে নতুন গ্রামের দুরত্ব 1km. এখন আমি কিভাবে কি করব।

    1. Shahriyar Shafiq says

      আপনাকে অনলাইনে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার আবেদন করতে হবে, এজন্য nidwing ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র পত্র দিয়ে একটি একাউন্ট করে নিবেন৷ এছাড়া ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন আবেদন ফর্ম পূরন করে নির্ধারিত উপজেলা নির্বাচন অফিসে দাখিল করুন৷ (সংশোধন ফি প্রযোজ্য) বিস্তারিত জানতে কল করুন ১০৫ নম্বরে, অথবা আপনার ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.