পর্তুগাল ভিসা আবেদন ২০২৩

0

২০২৩ সালে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কিংবা ভিজিট ভিসায় যেতে আগ্রহী হলে জেনে, নিন পর্তুগাল ভিসা আবেদন সংক্রান্ত সকল তথ্য।

বর্তমানে পর্তুগালে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্তুগালের সর্বনিম্ন বেতন ৭২৫ ইউরো নির্ধারণ করা হয়েছে, (প্রায় ৮০ হাজার টাকা)। তাই, বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ পর্তুগাল ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদন করছে। 

এছাড়াও ভিজিট ভিসায় গিয়ে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যও এন্ট্রির ব্যবস্থা করতে পারবেন। তাই জেনে নিন, আপনিও কিভাবে পর্তুগাল ভিসা আবেদন করবেন ও কি কি লাগবে।

পর্তুগাল ভিসা আবেদন করার নিয়ম

পর্তুগালে ভিসা আবেদন করার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মাধ্যম হচ্ছে এম্বাসি। তবে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পর্তুগালের কোন এম্বাসি নেই। তাই পর্তুগালের ভিসা আবেদন করতে হয় ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত VFS.Global এর মাধ্যমে।

অনলাইনে পর্তুগাল ভিসার আবেদনের জন্য পর্তুগালের সরকারি চাকরির ম্যানপাওয়ার প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হবে।  www.pt.indeed.com এ ধরনের চাকরির বিস্তারিত তথ্য পাবলিশ করে। তবে, অনলাইনে আবেদন করে ভিসা সংগ্রহ করা কিছুটা জটিল।

পর্তুগালে ভিজিট ভিসায় যেতে হলেও ভারতীয় বা প্রবাসী হলে অন্যান্য যে কোন দেশের পর্তুগাল এম্বাসি থেকে আবেদন করে ভিজিট ভিসা পাবেন।

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য দুই ভাবে আবেদন করা যায়।

  • ভারতীয় এম্বাসি থেকে
  • অনলাইনে

পর্তুগালের সবচেয়ে বেশি চাহিদা সম্পন্ন কাজ- ওয়েটার, শেফ, ফ্যাক্টরি ওয়ার্কার, সুপার শপ ক্লিনিং ইত্যাদি কাজে আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এম্বাসি থেকে আবেদন

ধাপ ১: 

পর্তুগাল ভিসার জন্য আবেদন করতে নিকটস্থ VFS Global (বাবা খড়ক সিং রুট, কনট প্লেস, নতুন দিল্লি, দিল্লি ১১০০০১, ভারত) এ যেতে হবে। তার জন্য প্রথমে ভারত ভিজিট ভিসায় যেতে হবে।

ধাপ ২: 

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস প্রদান করে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির কাজের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। আপনার সকল ডকুমেন্টস স্ক্যান করে জমা রাখা হবে। এছাড়াও ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ছবি গ্রহণ ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

ধাপ ৩: 

আবেদনের পর সেখানে ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ৪৫-৯০ দিন সময় নেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশে ফিরে আসার জন্য পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া হবে। কারণ, ভারতীয় ভিজিট ভিসায় একাধারে ৯০ দিনের বেশি অবস্থান করা যায় না।

ধাপ ৪:

ভিসা প্রসেসিং সম্পন্ন হলে ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে, ৯০ দিন পর পুনরায় ভারতে গিয়ে এম্বাসি থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।

অনলাইনে পর্তুগাল ভিসা আবেদন

অনলাইনে চাকরির জন্য পর্তুগাল ভিসার জন্য আবেদন করতে পূর্বেই আপনার যোগ্যতা ও দক্ষতার সকল তথ্য দিয়ে CV/ Resume তৈরি করে নিতে হবে। তারপর,

  1. প্রথমে, www.pt.indeed.com সাইটে ভিজিট করুন।
  2. এবার, আপনার দক্ষতার/ পছন্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাজের নাম লিখে সার্চ করুন। যেমন- Hotel job.
    সেখানে সকল চাকরির তালিকা দেখতে পাবেন।
  3. আপনার পছন্দের চাকরিতে আবেদনের জন্য আপনার তথ্যবহুল CV সাবমিট করুন।
  4. আপনার আবেদনটি গ্রহণযোগ্য হলে ইমেইলের মাধ্যমে ম্যানপাওয়ার ও ভিসা সংক্রান্ত তথ্য প্রেরণ করা হবে।
  5. তারপর, ভারতে পর্তুগাল এম্বাসিতে গিয়ে ভিসা প্রসেসিং করতে হবে।

পর্তুগাল ভিজিট ভিসা আবেদন

ভিজিট ভিসা পেতে হলেও ভারতের পর্তুগাল এম্বাসিতে একইভাবে আবেদন করতে হবে। এছাড়াও, আপনি যদি অন্য কোন দেশের প্রবাসী হয়ে থাকেন (যেমন- সৌদি আরব, দুবাই, কাতার), তাহলে সেখানে থাকা পর্তুগালের এম্বাসি থেকে ভিজিট ভিসা সংগ্রহ করতে পারবেন।

পর্তুগাল ভিসা পেতে কি কি লাগে

পর্তুগাল ভিসা আবেদন করতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ও ভিজিট ভিসা কাগজপত্রের ভিন্নতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস হলো-

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে কি কি লাগে

  • সর্বনিম্ন ২ বছর মেয়াদ সম্পন্ন ভ্যালিড পাসপোর্ট।
  • নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী তৈরি CV/ Resume.
  • নিজের দক্ষতাসম্পন্ন কাজে আবেদনের কপি।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা। ইংরেজি বা পর্তুগিজ ভাষায় পারদর্শী হলে বেশি প্রাধান্য পাওয়া যাবে।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

এসকল ডকুমেন্ট এম্বাসিতে প্রদান করে ও পরবর্তীতে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন, মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে পারবেন।

পর্তুগাল ভিজিট ভিসা পেতে কি কি লাগে

  • সর্বনিম্ন ৬ মাস মেয়াদি ভ্যালিড পাসপোর্ট।
  • আবেদন পত্রের কপি
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট। ব্যাংক ব্যালেন্স ৩-৪ লক্ষ টাকা থাকতে হবে।
  • ট্রাভেল ম্যাডিকেল ইন্সুরেন্স।
  • ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট।
  • আয়ের উৎসের বর্ননা।
  • পর্তুগাল যাওয়ার কারন ব্যাখ্যা করে একটি ‘কভার লেটার’।
  • এয়ার টিকেট বুকিং কপি।
  • হোটেল বুকিং কপি।
  • বিজনেস এর জন্য যেতে চাইলে ট্রেড লাইসেন্স এবং ভিজিটিং কার্ড।

FAQ

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে?

এজেন্সির মাধ্যমে পর্তুগালের ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে ৮-১০ লক্ষ টাকা লাগে। তবে সরকারিভাবে কাজের জন্য আবেদন করে ভিসা সংগ্রহ করতে পারলে ৫-৭ লক্ষ টাকা লাগবে।

পর্তুগাল ভিসা পেতে কতদিন সময় লাগে?

ভিসা আবেদন করার পর প্রসেসিং হতে ৪৫-৯০ দিন সময় লাগে।

বাংলাদেশে পর্তুগালের এম্বাসি আছে কি?

বাংলাদেশের পর্তুগালের এম্বাসি নেই। তবে, অন্য যেকোনো দেশে থাকা পর্তুগালের এম্বাসিতে আবেদন করতে পারবেন। যেমন- ভারতের দিল্লিতে VFS Global.

Leave A Reply

Your email address will not be published.